Tuesday, July 21, 2020

গরিবের ভাসমান হোটেলে ৮০ টাকায় রাত

গরিবের ভাসমান হোটেলে ৮০ টাকায় রাত

বুড়িগঙ্গা নদীতে ভাসমান হোটেল


ভাসমান হোটেলে মাত্র ৮০ টাকায় রাত পার করছেন অনেকে। রাজধানীর বুকে স্বল্প আয়ের ব্যক্তিরা পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটের বুড়িগঙ্গা নদীতে চারটি ভাসমান হোটেলের অস্থায়ী বাসিন্দা। অনেকে বলছেন, জাদুর শহর ঢাকার আনাচে-কানাচে আবাসিক হোটেলের অভাব নেই। আগে এগুলো ওয়াইজঘাটে থাকলেও বর্তমান অবস্থান নবাববাড়িসংলগ্ন বাদামতলী মসজিদ ঘাটে।
১৯৭৬ সালে ঢাকায় প্রথম নির্মিত হয় ভাসমান ‘উজালা বোর্ডিং’। পরে আরও তিনটি হোটেল ও বোর্ডিং নির্মিত হয়। তবে হোটেলগুলো নদীতে হলেও সাধারণত ভেসে বেড়ায় না। রাত ১২টা পর্যন্ত এ হোটেলগুলোয় প্রবেশ করা যায়। পরদিন বেলা ১১টার মধ্যে ছেড়ে দিতে হয়। একেকটিতে রাত কাটানোর জন্য দিতে হয় একেক রকম ভাড়া। ঢাকায় এর চেয়ে সস্তা আবাসিক হোটেল আর নেই। ওয়াইজঘাটের এ ভাসমান হোটেলের সিঙ্গেল বা একক কেবিনের ভাড়া মোটে ৮০ টাকা। ডাবল বা দ্বৈত কেবিনের জন্য গুনতে হয় ১৫০ টাকা। প্রতিটি কক্ষেই আছে একটি খাট, বালিশ, কাঁথা ও ফ্যান। নিম্ন আয়ের মানুষের রাতযাপনে উপযোগী একটি স্থান এ ভাসমান হোটেল। সরেজমিন গিয়ে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটে দেখা গেছে চারটি ভাসমান হোটেল এখনো চালু আছে। এগুলো হলো ‘উমা উজালা’, ‘বুড়িগঙ্গা’, ‘শরীয়তপুর’ ও ‘ফরিদপুর মুসলিম’ হোটেল। নিম্ন আয়ের মানুষের রাতযাপনে এগুলো বেশ উপযোগী। বছর দশেক আগে বন্ধ হয়ে যায় এমন আরেক হোটেল ‘নাজমা’। আশির দশকে ভাসমান হোটেলগুলো বেশ জমজমাট ছিল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা হিন্দু ব্যবসায়ীদের অনেকে রাতে থাকার জন্য বেছে নিতেন এগুলো। তবে করোনাভাইরাসের কারণে অনেকে গ্রামে চলে যাওয়ায় হোটেল ব্যবসায় কিছুটা মন্দা যাচ্ছে। ভাসমান হোটেলে এমন মানুষও পাওয়া যায় যারা প্রায় ৪০ বছর ধরে এভাবেই বসবাস করে আসছেন। ফরিদপুর হোটেলে এক বৃদ্ধ প্রায় ৪০ বছর ধরে আছেন। তার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের পালং উপজেলার বিনোদপুর গ্রামে। মুক্তিযুদ্ধের পর কাজের সন্ধানে ঢাকায় আসেন তিনি। কাজ না পেয়ে সদরঘাট টার্মিনালে পান, বিড়ি-সিগারেট বিক্রি করে জীবন চালাচ্ছেন। এর পর থেকে এ হোটেলের নিয়মিত বাসিন্দা হয়ে যান। ফরিদপুর মুসলিম হোটেলের ম্যানেজার মোহাম্মদ আলীর গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর। তাই ফরিদপুরের নামানুসারেই এর নাম ফরিদপুর মুসলিম হোটেল। তিনি জানান, ‘দুই বছর আগে এখানে থাকতে ৬০ টাকা দিতে হতো। বর্তমানে ৮০ টাকা দিতে হয়। আশির দশকে ওয়াইজঘাটের এসব ভাসমান হোটেলে খাবারের বিল পরিশোধ করলেই রাতে থাকা যেত। এসব হোটেলে থাকা ও মালামাল রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে যেসব লোক দিনে হকারি করে জীবন নির্বাহ করেন তারা রাতে তাদের মালামাল রেখে শান্তিতে ঘুমাতে পারেন। এসব হোটেলে ফেরিওয়ালা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হকার, ফল ব্যবসায়ীরাই বেশি থাকেন।

Saturday, July 18, 2020

সময় এখন ই-কমার্সের


সময় এখন ই-কমার্সের
চাল-ডালের পর এবার গরু। অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে নতুন নতুন ক্রেতা তৈরি হচ্ছে। আসছে নতুন বিনিয়োগ। করপোরেটরা জোর দিচ্ছে অনলাইন কেনাকাটার ওপর।
আলু-পটোলও যে অনলাইনে কেনা যায়, তা এই করোনাকাল শিখিয়ে দিল দেশের মানুষকে। বিশেষ করে রাজধানীবাসীকে।এখন অনেকেই অনলাইনে কাঁচাবাজার সারছেন। ওষুধ কিনছেন। ইলেকট্রনিকস পণ্য, পোশাক, গৃহস্থালির বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনার প্রবণতা আগেই ছিল, যেখানে ভাটা পড়ে এপ্রিল-মে মাসে, জুনে আবার গতি ফিরেছেlএমনকি যাঁরা এত দিন গরুর হাটে গিয়ে শিং দেখে, দাঁত দেখে, সঙ্গে দু-একটা গুঁতো খেয়ে গরু কিনতে অভ্যস্ত ছিলেন, তাঁদের একাংশ অনলাইনেই গরু দেখা শুরু করেছেন। ঘরে বসে পছন্দ করছেন খামারে থাকা গরু।
সব মিলিয়ে আগামী দিনগুলোতে সুসময় সব মিলিয়ে আগামী দিনগুলোতে সুসময় দেখছেন ই-কমার্স খাতের উদ্যোক্তারা। তাঁদের মতে, অনলাইনে কেনা ও লেনদেনের যে অভ্যস্ততা তৈরি হয়েছে, তার একটি অংশ ভবিষ্যতেও থাকবে।ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আজকের ডিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুর বলেন, ক্রেতাদের একটা বড় অংশের অনলাইনে কেনাকাটার অভিজ্ঞতা ছিল না। করোনাকালে তাঁরা অনলাইনে পণ্য কিনেছেন। ফলে অভ্যস্ততা তৈরি হয়েছে। আশা করা যায়, ভবিষ্যতে তাঁদের একটা অংশ অনলাইনের ক্রেতা হিসেবে থাকবেন। তিনি বলেন, ‘সবার তো ক্রেডিট কার্ড নেই। তবে অনেকেরই মুঠোফোনভিত্তিক আর্থিক সেবার (এমএফএস) হিসাব খোলা আছে। আমরা দেখছি, এখন আমাদের লেনদেনের ৪০ শতাংশের মতো হচ্ছে এমএফএসের মাধ্যমে। এটা করোনার আগে ২০ শতাংশ ছিল।’ 
বাংলাদেশে ই-কমার্স খাত গতি পেতে শুরু করে ২০১৩ সাল থেকে। ওই বছর দুটি ঘটনা ঘটেছিল। প্রথমত, ক্রেডিট কার্ড দিয়ে আন্তর্জাতিক কেনাকাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। একই বছর দেশের মোবাইল অপারেটরগুলো দ্রুতগতির তৃতীয় প্রজন্মের ইন্টারনেট সেবা (থ্রিজি) চালু করে।এরপর চতুর্থ প্রজন্মের ইন্টারনেট সেবা (ফোরজি) চালু হয়েছে। মানুষের স্মার্টফোন ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। অন্যদিকে ই-কমার্স খাতে নতুন নতুন বিনিয়োগ এসেছে। সব মিলিয়ে খাতটি বড় হয়েছে। ক্রেতা বেড়েছে।
ই-ক্যাবের হিসাবে, তাদের সদস্যসংখ্যা ১ হাজার ২০০। বছরে বিক্রির পরিমাণ আট হাজার কোটি টাকার মতো। অবশ্য এর বাইরে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছোট ছোট পণ্যবিক্রেতা রয়েছেন। আবার দোকানমালিকেরা অনেকেই অনলাইনে পণ্য বিক্রি করেন। তাঁদের অনেকেই আবার সুপরিচিত অনলাইন মার্কেট প্লেস বা কেনাবেচার মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত।পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা জার্মান ওয়েব পোর্টাল স্ট্যাটিস্টা গত মে মাসে বৈশ্বিক ই–কমার্স ব্যবসা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরে চলতি জুলাই মাসে তারা আবার সেটি হালনাগাদ করে। 


স্ট্যাটিস্টার হিসাবে, ২০২০ সালে বৈশ্বিক ই–কমার্স ব্যবসার বাজারের আকার দাঁড়াবে দুই লাখ কোটি ডলার। সবচেয়ে বড় বাজার চীন। এরপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি। স্ট্যাটিস্টার পূর্বাভাস বলছে, চলতি বছর বাংলাদেশে ই–কমার্সের আকার দাঁড়াবে ১৯৫ কোটি ডলারের বেশি। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা। এটা তাদের পূর্ববর্তী পূর্বাভাসের চেয়ে কম। আগে তারা বলেছিল, চলতি বছর বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতের বিক্রির পরিমাণ ২০৭ কোটি ডলারের বেশি হবে। স্ট্যাটিস্টা করোনাকে মাথায় নিয়ে তাদের নতুন প্রক্ষেপণ তুলে ধরেছে। বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের অনেকেই স্ট্যাটিস্টার পরিসংখ্যানের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তবে করোনাকালে ই-কমার্স খাত যে সমস্যায় পড়েছে, সেটা তাঁরাও জানাচ্ছেন।
দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি শুরু হয়। তখন অনলাইনগুলো দুটো সমস্যায় পড়ে। একটা হলো, সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়া। দ্বিতীয়টি, চাহিদা কমে যাওয়া। অনলাইনে সাধারণত যেসব পণ্য বিক্রি হতো, এপ্রিল-মে মাসে সেগুলোর চাহিদা কমে যায়। এর মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, পোশাক ইত্যাদি। ডেলিভারি পারসনদের অনেকেই গ্রামের বাড়িতে চলে যান। আবার পণ্যের উৎসগুলো বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলা বা গ্রামে পণ্য কেনাকাটার যে প্রবণতা ছিল, সেটা থমকে যায়। দেখছেন ই-কমার্স খাতের উদ্যোক্তারা। তাঁদের মতে, অনলাইনে কেনা ও লেনদেনের যে অভ্যস্ততা তৈরি হয়েছে, তার একটি অংশ ভবিষ্যতেও থাকবে।প্রচলিত পণ্যের বিপরীতে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয় মুদি ও নিত্যব্যবহার্য পণ্যের। ফরমায়েশের চার-পাঁচ গুণ বৃদ্ধি সামাল দিতে ব্যাপক সংকটে পড়ে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো।
 কিন্তু বেশির ভাগের ব্যবসা আবার বন্ধ হয়ে যায়। কেউ কেউ নিত্যপণ্য বিক্রি শুরু করে ব্যবসা চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ভবিষ্যতের বাজার ধরতে দারাজ বাংলাদেশে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বলেও জানান সায়ন্তনী তৃষা। উল্লেখ্য, দারাজ ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে। ২০১৮ সালে চীনের আলিবাবা এটিকে অধিগ্রহণ করে। তারা জানিয়েছে, নতুন বিনিয়োগের সিংহভাগ তারা সরবরাহ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করবে। ৬৪টি জেলায় ১৫০টির বেশি কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে দারাজ। 
অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে বড় সমস্যা এখন প্রতারণা। ক্রেতাদের ঠকাচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করছেন না। সে ক্ষেত্রে যারা ক্রেতাদের ভালো সেবা দিচ্ছে, তারাই ভালো করবে বলে মনে করেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল। তিনি বলেন, করোনাকালে যাঁরা একবার অনলাইনের মাধ্যমে কোনো ঝামেলা ছাড়া ঘরে বসে তাঁদের প্রয়োজনীয় পণ্যটি পেয়েছেন, তাঁরা আবার কেনার জন্য অনলাইন মাধ্যমে আসছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই খাত আগামী দিনগুলোতে আরও ভালো করবে বলে আশা করা যায়।প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ই-কমার্স ব্যবসা অথবাডটকম করোনাকালে আগের চেয়ে তিন গুণ পণ্য কেনাবেচা করেছে।
 তারা জানিয়েছে, এ সময়ে ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি কিনেছেন মাস্ক, জীবাণুনাশক, হ্যান্ড গ্লাভস বা দস্তানাসহ বিভিন্ন ধরনের সুরক্ষাসামগ্রী। এরপরই রয়েছে পার্সোনাল কেয়ার পণ্য, ভোগ্যপণ্য, ব্যায়াম করার জন্য ট্রেডমিল ও বিভিন্ন ধরনের ফল। বাইসাইকেলের চাহিদাও বেড়েছে। দেশের করপোরেটগুলোও বুঝতে পেরেছে যে আগামী দিনগুলোতে অনলাইনভিত্তিক বাজার বড় হবে। এ জন্য তারাও জোর দিচ্ছে অনলাইনভিত্তিক মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হতে। ফলে একটা প্রশ্ন সামনে আসছে যে ঢাকার অভিজাত এলাকায় বিপুল ব্যয়ে ভবনের স্পেস বা জায়গা ভাড়া নিয়ে দোকান খোলার প্রবণতা কি আগের মতো থাকবে, নাকি সেখান থেকে খরচ কমিয়ে ক্রেতাদের অনলাইনে আরেকটু কম দামে পণ্য সরবরাহ করবে করপোরেটরা। অনেকে বলছেন, তাঁরা তাঁদের স্টোরগুলোকে এখন অনলাইন বিক্রির কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করছেন। 
ধরা যাক, গুলশান এলাকায় কেউ পণ্যের ফরমাশ দিয়েছেন। তাঁকে ওই এলাকার কোনো স্টোর থেকে পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। স্যামসাং ব্র্যান্ডের ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদনকারী ফেয়ার ইলেকট্রনিকসের বিপণনপ্রধান মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দীন বলেন, করোনার আগে তাঁদের মোট বিক্রির ১ থেকে ২ শতাংশ হতো অনলাইনে। এখন সেটা ৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা অনলাইনে জোর দিচ্ছি। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছি।’করোনাকালের আগে দেশের মোট মুঠোফোন গ্রাহকের মাত্র ৩৫ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহারকারী ছিল। সেটা আগামী দিনগুলোতে বাড়বে। গত মাসেই জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা ২০১৮ সংশোধন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগের পথ খুলে দিয়েছে। দেশের মানুষ যদি কোরবানির গরু অনলাইনে কিনতে পারেন, তাহলে বাকি থাকবে কী? সুদিন আসছে কি না, দেখা যাবে আগামী দিনে। মনে রাখতে হবে, অন্য খাত যখন কর্মী ছাঁটাইয়ের চিন্তায়, ই-কমার্স তখন লোক নিয়োগ করছে।



বিনা খরচায় জাপান যেতে যা লাগবে!!



বাংলাদেশ থেকে বিনা খরচে আগামী পাঁচ বছরে ৩ লাখ ৬১ হাজার ৪০০ দক্ষ কর্মী নেবে জাপান—এ খবর গত  ২০১৯ সন  আগস্ট মাসের। জাপান সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের এ নিয়ে চুক্তি হয়েছে। ১৪টি শ্রেণিতে (ক্যাটাগরি) এ কর্মী নেবে জাপান। তবে কর্মীদের জাপানি ভাষা জানতে হবে। জাপানের ইমিগ্রেশন বিভাগ এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, প্রথম বছর দেশটি ভিসা দেবে ৪৭ হাজার ৫৫০ জনকে।

চীন, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, মঙ্গোলিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম থেকে দীর্ঘদিন ধরেই কর্মী নিচ্ছে জাপান। এ তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো বাংলাদেশ।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা বাংলাদেশ কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ইতিমধ্যেই জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে। বিএমইটির মহাপরিচালক মো. শামছুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানুষের আগ্রহ ব্যাপক। ভাষা শেখার জন্য অনেক আবেদন আসছে। কিন্তু সংখ্যা নির্দিষ্ট। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা নিয়ে বাছাই করা হচ্ছে।’
কোন শ্রেণিতে কত লোক
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে জাপান সবচেয়ে বেশি লোক নেবে নার্সিং কেয়ার শ্রেণিতে। এ সংখ্যা ৬০ হাজার। জাপানের মানুষের গড় আয়ু ৮৪ বছর হলেও ১০০ বা তার অধিক বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। বয়স্ক এসব মানুষের সেবা দেওয়ার জন্যই এ শ্রেণিতে বেশি লোক নেওয়ার চাহিদা রয়েছে দেশটির।
এ ছাড়া রেস্তোরাঁ শ্রেণিতে ৫৩ হাজার, নির্মাণ (কনস্ট্রাকশন) শ্রেণিতে ৪০ হাজার, ভবন পরিষ্কার শ্রেণিতে ৩৭ হাজার, কৃষিতে ৩৬ হাজার ৫০০, খাবার ও পানীয় শিল্প শ্রেণিতে ৩৪ হাজার, সেবা শ্রেণিতে ২২ হাজার, মেটেরিয়ালস প্রক্রিয়াজাতকরণ শ্রেণিতে ২১ হাজার ৫০০, অটোমোবাইল রক্ষণাবেক্ষণ শ্রেণিতে ২১ হাজার ৫০০, জাহাজনির্মাণে ১৩ হাজার, মৎস্যশিল্পে ৯ হাজার, শিল্প যন্ত্রপাতিতে ৭ হাজার, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিতে ৪ হাজার ৭০০ এবং এয়ারপোর্ট গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অ্যান্ড এয়ারক্রাফট রক্ষণাবেক্ষণ শ্রেণিতে ২ হাজার ২০০ লোক নেবে জাপান।
দুই ধরনের ভিসা
লম্বা সময়ের বিবেচনায় বাংলাদেশি কর্মীদের দুই ধরনের ভিসা দেবে জাপান। ভিসা শ্রেণি-১ ও ভিসা শ্রেণি-২। ভিসা শ্রেণি-১ হচ্ছে বিশেষায়িত দক্ষ (স্পেসিফাইড স্কিলড) কর্মী ভিসা। ১৪ শ্রেণির দক্ষ কর্মীরা পাঁচ বছরের জন্য এ ভিসা পাবেন। তবে এ ভিসার আওতায় কোনো কর্মী পরিবারের কোনো সদস্য নিয়ে জাপান যেতে পারবেন না।
আর ভিসা শ্রেণি-২ হচ্ছে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য জাপানে থাকার সুবিধা পাওয়া। এই ভিসা পেলে বাংলাদেশি কর্মীরা পরিবারের সদস্যদেরও জাপানে নিয়ে যেতে পারবেন। এতে আবেদনের পূর্ব শর্ত হচ্ছে ভিসা শ্রেণি-১ থাকা। যাঁরা তাঁদের কাজের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন, তাঁরাই পাবেন এ ভিসা। অবশ্য ২০২১ সাল থেকে এই আবেদন নেওয়া শুরু হবে। সুযোগটি আবার সবার জন্য অবারিত নয়। শুধু নির্মাণ শ্রেণি ও জাহাজনির্মাণ শ্রেণিতে যাঁরা ভিসা-১ পাবেন, তাঁরাই পাবেন এ সুযোগ। পরের টানা ১০ বছর জাপানে থাকার পর দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিও মিলতে পারে।
কোথায় শিখবেন জাপানি ভাষা
জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ না নিয়ে কেউ জাপানে যাওয়ার সুযোগ পাবেন না। বিএমইটির অধীনে ২৬টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার) চার মাস মেয়াদি জাপানি ভাষা শিক্ষার কোর্স চালু করা হয়েছে। প্রতিটিতে প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন ৪০ জন করে।
এ ছাড়া রয়েছে বেসরকারি পর্যায়ে কারিগরি ও ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যেমন মিরপুর ১০ নম্বরে রয়েছে আন্তর্জাতিক ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘একুশ’
 (www. ekushinternationallanguagecentre. com)
বিএমইটির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ কোরিয়া টিটিসি (মিরপুর), শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা টিটিসি (মিরপুর), বাংলাদেশ কোরিয়া টিটিসি (চট্টগ্রাম), খুলনা টিটিসি, রাজশাহী টিটিসি, রংপুর টিটিসি, পাবনা টিটিসি, রাঙামাটি টিটিসি, বান্দরবান টিটিসি, নোয়াখালী টিটিসি, ময়মনসিংহ টিটিসি, নীলফামারী টিটিসি, যশোর টিটিসি, দিনাজপুর টিটিসি, মাদারীপুর টিটিসি, নরসিংদী টিটিসি, মাগুরা টিটিসি, মৌলভীবাজার টিটিসি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ টিটিসি, কুষ্টিয়া টিটিসি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া টিটিসি, জয়পুরহাট টিটিসি, গাইবান্ধা টিটিসি, ঝিনাইদহ টিটিসি, প্রবাসীকল্যাণ ভবন (ঢাকা), জামালপুর টিটিসি ও নেত্রকোনা টিটিসি।
প্রশিক্ষণের পর পরীক্ষায় বসেন কর্মীরা। উত্তীর্ণ হলে জাপানের ব্যবস্থাপনায় আরও চার মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরপর শিক্ষানবিশ হিসেবে তাঁদের জাপানে নিয়ে যাওয়া হয়।
সরকারি কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ ফি এক হাজার টাকার মতো হলেও বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের চার মাসের কোর্স ফি ২০ হাজার টাকা।
একুশের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নূরুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘খরচ বেশি তবে আমরা খুব যত্নের সঙ্গে জাপানি ভাষা শেখাচ্ছি।’
বেতন কত
জাপানের শ্রম আইন অনুযায়ী একজন কর্মীর ন্যূনতম বেতন ঘণ্টায় বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭০০ টাকা। কর্মীরা দিনে ৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। সে হিসাবে একজন কর্মী মাসে পাবেন ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকার মতো। কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য সপ্তাহে ৪৪ ঘণ্টা কাজ করার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বেতনের টাকা দেওয়া হয় ব্যাংক হিসাবে।
সার্বিক বিষয়ে বিএমইটির মহাপরিচালক শামছুল আলম জানান, এ পর্যন্ত ২৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে প্রশিক্ষণ দেওয়াসহ জাপানে লোক পাঠানোর ব্যাপারে সহযোগিতা করতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। টাকা নেওয়ার অভিযোগে একটির অনুমতিপত্র বাতিলও করা হয়েছে। বাকিরা কাজ করছে। জাপানি ভাষা সরকারি-বেসরকারি যেকোনো কেন্দ্র থেকে শিখলেও কোনো অসুবিধা নেই বলেও জানান তিনি।

করোনায় গরম মসলার বাজার ঠান্ডা!!




ঈদুল আজহার আগে প্রতিবছর গরমমসলার চাহিদা বেশি থাকে। পাইকারি থেকে খুচরা বাজার—সবখানেই বেচাকেনা বেশি হয়। করোনার কারণে এবার ঠিক উল্টো চিত্র মসলার বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে পড়তি দর এবং চাহিদা কমায় পাইকারি বাজারে মসলার দাম কমছে।
গরমমসলা পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। করোনার কারণে বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে দাম পড়ে গেছে মসলার। ঠিক একই কারণে দেশেও ব্যবহার কমেছে। দেশে গরমমসলা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় সামাজিক ও করপোরেট অনুষ্ঠান এবং হোটেল-রেস্তোরাঁয়। করোনায় এসব খাতে মসলার চাহিদা নেই। আবার চাহিদা কমলেও আমদানি কমেনি। পর্যাপ্ত মজুত থাকায় বিক্রি করে বাজার থেকে বের হতে চাইছেন ব্যবসায়ীরা। এতে দাম পড়ছে।
বাংলাদেশ পাইকারি গরমমসলা ব্যবসায়ী সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অমর কান্তি দাশ প্রথম আলোকে বলেন, রোজার ঈদের আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে তাঁদের সংগঠন থেকে দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এখন সেই দামের চেয়েও অনেক বেশি কমেছে মসলার দাম। ঈদুল আজহা উপলক্ষে চাহিদা থাকলেও দাম বাড়বে না। কারণ, মসলার পর্যাপ্ত মজুত আছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে আট ধরনের গরমমসলা বেচাকেনা হয়। এগুলো হলো এলাচ, জিরা, দারুচিনি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, জায়ফল,
জয়ত্রী ও তারকা মৌরি বা তারা মসলা। এই মসলার ৮২ শতাংশই আমদানি হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হয় কমবেশি ১৮ শতাংশ।
সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গরম মসলা আমদানি হয় ৫১ হাজার ৮৯৪ টন। শুল্ককরসহ এসব মসলার আমদানিমূল্য পড়েছে ১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা। পাইকারি বাজারে এই মসলা বেচাকেনা হয় তিন হাজার কোটি টাকায়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় মসলার আমদানি প্রায় এক শতাংশ বেড়েছে।
মসলার দরদাম
আট ধরনের গরমমসলার মধ্যে সবচেয়ে দামি হলো এলাচ। করোনার আগে পাইকারি বাজারে এই মসলার কেজিপ্রতি দাম ওঠে প্রায় চার হাজার টাকা। গত মাসে তা ২ হাজার ৮০০ টাকায় নেমে আসে। এখন আরও কমে মানভেদে ২ হাজার ৪২০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এলাচের ৯৯ শতাংশই আমদানি হয় গুয়াতেমালা থেকে। প্রায় অর্ধেকের মতো দাম কমার কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে পড়তি দাম। আবার এবার ভারত থেকেও কিছু পরিমাণ এলাচ আমদানি হচ্ছে। ফলে বাজার এখনো পড়তির দিকে। বন্দর দিয়ে গত অর্থবছরে ২ হাজার ৬৫০ টন এলাচ আমদানি হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে পড়তি দর ও চাহিদা কমায় পাইকারি বাজারে মসলার দাম কমছে
ঈদুল আজহায় দাম বাড়বে না
গরমমসলার মধ্যে পরিমাণে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় জিরা। জিরার সিংহভাগই আমদানি হয় ভারত থেকে। এই পণ্যেরও দাম কেজিপ্রতি ৩৩০ টাকা থেকে কমে ২৫৫-২৬০ টাকায় নেমেছে। গত অর্থবছরে ২৪ হাজার টন জিরা আমদানি হয় বন্দর দিয়ে।
গোলমরিচের দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা কমে ২৬০ টাকায় নেমেছে। বাজারে ভিয়েতনামের গোলমরিচই বেশি। মোট আমদানির প্রায় ৬১ শতাংশ এই দেশ থেকে আসে। ভারত, মাদাগাস্কার, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে আমদানি হয় ৩৯ শতাংশ। গত অর্থবছরে পণ্যটি ১ হাজার ৫৮ টন আমদানি হয়, যা এক বছর আগের তুলনায় ৪৩৪ টন বেশি।
করোনায় লবঙ্গের চাহিদা বেশি। রান্না ছাড়াও চা পানে লবঙ্গ ব্যবহৃত হচ্ছে বেশি। এরপরও পণ্যটির দাম কমছে। কেজিপ্রতি ৬২০ টাকা থেকে নেমে ৫৫০ টাকায় এসেছে দাম। ব্রাজিল, মাদাগাস্কার, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা হচ্ছে লবঙ্গ। পণ্যটি আমদানি হয়েছেও বেশি। গত অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ ১ হাজার ৬০০ টন।
দারুচিনি আমদানি হয় চীন থেকে। গত অর্থবছর শেষে মসলাটির আমদানি ২৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৬ হাজার টন। চীন থেকে আমদানি করা দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৬০ টাকায়। এক মাস আগেও ছিল ৩০০ টাকা। এ ছাড়া জায়ফল, জয়ত্রী ও তারা মসলার দামও সামান্য কমেছে।
মসলা আমদানিকারক ফারুক ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার ফারুক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, গরমমসলার বাজার এখন আর গরম নেই। চার মাস ধরে বিয়ে, মেজবান, করপোরেট অনুষ্ঠান হচ্ছে না। রেস্তোরাঁ খুললেও আগের মতো চাহিদা নেই। আবার ঈদুল আজহায় অনেক মানুষ কোরবানি করবে কি না, তা–ও নিশ্চিত নয়। সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা এখন লোকসানে বিক্রি করছেন।

বিদেশি ক্রেতারা আসছেন, ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পোশাক খাত


বাতিল ও স্থগিতাদেশ হওয়া পোশাকের ক্রয়াদেশের পণ্য নিতে শুরু করেছেন বিদেশি ক্রেতারা। আবার নতুন করে আসছে ক্রয়াদেশও। এরই মধ্যে অনেক কারখানাতেই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাজ করার মতো পর্যাপ্ত ক্রয়াদেশ চলে এসেছে। ফলে করোনাভাইরাসের শুরুর দিকে বিপর্যস্ত রপ্তানি আয়ের শীর্ষ খাতটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

বর্তমানে যে পরিমাণ ক্রয়াদেশ আসছে, সেটিকে অবশ্য মন্দের ভালো বলছেন পোশাকশিল্পের মালিকেরা। অন্তত আটজন কারখানামালিক জানান, গতবারের তুলনায় বর্তমানে ৭০-৮০ শতাংশ ক্রয়াদেশ আসছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে সাহস জোগাচ্ছে। অনেকগুলো বড় ব্র্যান্ড স্থগিত ও বাতিল করা ক্রয়াদেশের পণ্য আবার নিতে শুরু করায় পোশাক রপ্তানি গত জুনে বেশ খানিকটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস ও টিকা আবিষ্কার না হওয়ায় একধরনের অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে গত মার্চে সেখানকার বড় ক্রেতারা একের পর এক ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত করতে থাকেন। এদিকে দেশেও ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর মাসখানেক পোশাক কারখানা বন্ধ ছিল। তাতে এপ্রিলে মাত্র ৩৭ কোটি মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। পরের মাসে রপ্তানি হয় ১২৩ কোটি ডলারের পোশাক। জুনে সেটি বেড়ে ২২৫ কোটি ডলারে গিয়ে দাঁড়ায়। তারপরও বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২ হাজার ৭৯৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়, যা তার আগের বছরের চেয়ে ৬১৮ কোটি ডলার কম।
১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের প্যাসিফিক জিনস গ্রুপের পাঁচটি কারখানা রয়েছে। করোনা সংক্রমণের মধ্যেও সদ্য বিদায়ী ২০১৯–২০ অর্থবছরে তারা রপ্তানি করেছে প্রায় ৪০ কোটি ডলারের পোশাক। তার আগের অর্থবছরের চেয়ে তাদের রপ্তানি কমেওনি, বাড়েওনি।
জানতে চাইলে প্যাসিফিক জিনসের পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে বিক্রয়কেন্দ্র খোলার পরপরই ক্রেতারা ক্রয়াদেশ দিতে শুরু করেছেন। আমাদের কারখানায় গতবারের চেয়ে বর্তমানে ৬০-৭০ শতাংশ ক্রয়াদেশ রয়েছে।’ তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্রয়াদেশ আছে। তারপরের ক্রয়াদেশও আসছে। তবে আসার গতিটা কম। অনেক সময় ক্রেতারা কারখানা বুকিং দেওয়ার পরও নানা কারণে শেষ পর্যন্ত ক্রয়াদেশ দেন না। ফলে কিছুটা অনিশ্চয়তা তো আছেই।
এদিকে করোনায় একেবারে ক্রয়াদেশ কমেনি, এমন কারখানার খোঁজও পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুরোনো এক উদ্যোক্তা জানান, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্রয়াদেশ নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই তাঁর। গতবারের মতোই ক্রয়াদেশ রয়েছে কারখানায়। করোনায় ক্রয়াদেশ তো কমেনি, বরং নতুন দুটি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের ক্রয়াদেশ পেয়েছেন তিনি।
পোশাক খাতের আরেক বড় প্রতিষ্ঠান ঢাকার রাইজিং গ্রুপ। তাদের পোশাক কারখানার সংখ্যা ৭টি। ওয়ালমার্ট, ইন্ডিটেক্স, প্রাইমার্ক, টার্গেট, কিয়াবি, কে-মার্টের মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি করা রাইজিং গ্রুপের রপ্তানির পরিমাণ বছরে ১৩ কোটি ডলার।
রাইজিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের সাতটি কারখানার মধ্যে ছয়টিতে ভালো ক্রয়াদেশ আসছে। সব মিলিয়ে গতবারের তুলনায় ক্রয়াদেশের পরিমাণ ৮০ শতাংশের কাছাকাছি। তা ছাড়া মার্চে বাতিল ও স্থগিত হওয়া সব ক্রয়াদেশের পণ্য ক্রেতারা নিতে শুরু করেছে। যদিও একটি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানকে ৪ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যছাড় দিতে হয়েছে।’
মাহমুদ হাসান খান আরও বলেন, ‘করোনার শুরুর দিকে ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। তবে বর্তমানে ক্রয়াদেশ আসার হার দেখে ভরসা পাচ্ছি। মনে হচ্ছে আমরা টিকে যেতে পারব।’
উদ্যোক্তারা গতবারের তুলনায় ৭০-৮০ শতাংশ ক্রয়াদেশ প্রাপ্তির যে কথা বলছেন, তার সঙ্গে রপ্তানি আয়ের চিত্রও মিলে যাচ্ছে। পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ গত বুধবার জানিয়েছে, ১ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত ৯৮ কোটি ৭০ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ১১৯ কোটি ডলারের পোশাক।
করোনার প্রভাব কাটছে
গতবারের তুলনায় বর্তমানে ৭০-৮০ শতাংশ ক্রয়াদেশ আসছে
তার সঙ্গে রপ্তানি আয়ের চিত্রও মিলে যাচ্ছে
মার্চে পোশাকের ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় মালিকেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লে সরকার রপ্তানিমুখী কারখানার শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। সেই তহবিল থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কারখানার মালিক মাত্র ২ শতাংশ সেবা মাশুলে ঋণ নিয়ে তিন মাসের মজুরি দিয়েছেন। অন্যদিকে দুই মাসের ব্যবধানে পোশাক রপ্তানিতে গতি ফিরলেও ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক হাজার শ্রমিক ছাঁটাই করেছেন পোশাকশিল্প উদ্যোক্তারা। এপ্রিলে কারখানা বন্ধ থাকাকালে ৬৫ শতাংশ মজুরি দিয়েছেন। এমনকি শ্রমিকের ঈদ বোনাসেও হাত দিয়েছেন অধিকাংশ মালিক।
বিজিএমইএর তথ্যানুযায়ী, করোনায় ৩১৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানির ক্রয়াদেশ প্রাথমিকভাবে বাতিল ও স্থগিত হয়েছিল। তার মধ্যে প্রাইমার্ক ৩৩ কোটি, ইন্ডিটেক্স ৮ কোটি ৭০, বেস্টসেলার ৮ কোটি ৩০ লাখ, মাদারকেয়ার ৫ কোটি ৬০ লাখ, কোহলস ৫ কোটি ৪০ লাখ, গ্যাপ ৩ কোটি ৮০ লাখ, জেসি পেনি সাড়ে ৩ কোটি, ওয়ালমার্ট ১ কোটি ৯০ লাখ, ডেবেনহাম ১ কোটি ৮০ লাখ ও রালফ লরেন ১ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত করে (হিসাবটি আনুমানিক)।
পরবর্তী সময়ে নানামুখী চাপের কারণে অধিকাংশ ক্রেতাই পণ্য নিতে সম্মত হন। তবে অর্থ পরিশোধে ছয় মাস পর্যন্ত সময় চান অনেকে। সর্বশেষ ২ জুলাই লেভি স্ট্রজ ও তার কয়েক দিন পর গ্যাপ ইনকরপোরেশন বাতিল করা ক্রয়াদেশের পোশাক পূর্ণ দাম দিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে ব্র্যান্ড দুটির ৩০-৪০টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা কিছুটা হলেও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন।
বাংলাদেশি পোশাকের অন্যতম বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এইচঅ্যান্ডএম। সুইডেনভিত্তিক এই ব্র্যান্ড বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার বা ২৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার পোশাক কিনে থাকে। সেই হিসাবে ১০ শতাংশ বাংলাদেশি পোশাকের ক্রেতা হচ্ছে এইচঅ্যান্ডএম। করোনায় কোনো ক্রয়াদেশ বাতিল করেনি তারা। স্থগিত হওয়া ক্রয়াদেশের পণ্য নেওয়া শুরুর পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের কাছে কোনো মূল্যছাড়ও চায়নি। পোশাকের ক্রয়াদেশের দাম পরিশোধের শর্তেও কোনো রকম পরিবর্তন করেনি এইচঅ্যান্ডএম।
জানতে চাইলে এইচঅ্যান্ডএমের বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইথিওপিয়ার প্রধান জিয়াউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত দুই থেকে আড়াই মাসে আমরা ৫০ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ দিয়েছি। আমাদের ৩০০ সরবরাহকারী কারখানার সবাই ক্রয়াদেশ পেয়েছে। এইচঅ্যান্ডএমের ক্রয়াদেশ পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্য প্রতিযোগী দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। চীন ও তুরস্ক থেকে যেসব ক্রয়াদেশ সরছে, তার একটি অংশ বাংলাদেশে আসছে। কারণ, বাংলাদেশে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম।’
আগামী দুই-তিন মাসের পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে জিয়াউর রহমান আরও বলেন, ‘লকডাউনের পর বিক্রয়কেন্দ্র খুলেছে। কোনো কোনো দিন ভালো বিক্রি হচ্ছে। আবার কোনো দিন হচ্ছে না। ফলে প্রতি সপ্তাহে পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হচ্ছে। তা ছাড়া লকডাউনের কারণে স্টক জমে গেছে। আমরা সেগুলো নিয়ে কাজ করছি। ফলে আগামী কয়েক মাস ক্রয়াদেশ কী পরিমাণ দেওয়া হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।’
বাংলাদেশি পোশাকের আরেক বড় ক্রেতা যুক্তরাজ্যভিত্তিক ব্র্যান্ড মার্ক্স অ্যান্ড স্পেনসার (এমঅ্যান্ডএস)। ব্র্যান্ডটির ১ হাজার ৪৬৩ বিক্রয়কেন্দ্রে গত বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের পোশাক গেছে। বর্তমানে এমঅ্যান্ডএসের পোশাক তৈরি করে দেশের ৫৫ জন সরবরাহকারী। কারখানার সংখ্যা ৮৩।
জানতে চাইলে এমঅ্যান্ডএসের বাংলাদেশ প্রধান স্বপ্না ভৌমিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনায় আমরা কাজের ধরন বদলে ফেলেছি। বিক্রয়কেন্দ্রে বিক্রি যে পরিমাণে হচ্ছে, সেই পরিমাণে ক্রয়াদেশ দিচ্ছি। নতুন ক্রয়াদেশের বেলায় আট সপ্তাহের বেশি সময় দিচ্ছি না। দ্রুত সরবরাহ করতে স্থানীয়ভাবে পোশাকের অনুমোদন দিতে শুরু করেছি আমরা। সেই সঙ্গে চীন থেকে কৃত্রিম তন্তুর সুতা আমদানি করে দেশেই কাপড় উৎপাদনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে গতবারের চেয়ে ৭০-৮০ শতাংশ ক্রয়াদেশ পাচ্ছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।’
করোনার শুরুর দিকে প্রস্তুত হওয়া পোশাকের বেশির ভাগই নেওয়া শেষ। প্রস্তুত হওয়া কিছু পণ্য পরে জাহাজে উঠবে। সে ক্ষেত্রে রপ্তানিকারকদের কাঁচামালের অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। এমন তথ্য দিয়ে স্বপ্না ভৌমিক বলেন, উদ্যোক্তারা বর্তমান চ্যালেঞ্জের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিচ্ছেন। ফলে শিগগিরই বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি খাত ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দেশের পোশাক রপ্তানিতে আরেক বড় প্রতিষ্ঠান এনভয় গ্রুপ। ১৯৮৪ সালে শুরু করা গ্রুপটির অধীনে রয়েছে ১৫টি পোশাক কারখানা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিখ্যাত জারা, নেক্সট, সিঅ্যান্ডএ, কেলভিন ক্লেইন, আমেরিকান ইগল, ওয়ালমার্ট, ডিজনিসহ বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের জন্য পোশাক সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি।
এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম মুর্শেদী প্রথম আলোকে বলেন, যেসব ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হয়েছিল, সেগুলো ক্রেতারা নিচ্ছেন। অন্যদিকে নতুন ক্রয়াদেশ আসার যে প্রবণতা রয়েছে, সেটিও ইতিবাচক। যদিও জুলাই-আগস্ট লিংক পিরিয়ড, প্রতিবছরই মাস দুটিতে ক্রয়াদেশ কিছুটা কম থাকে। তিনি বলেন, সরবরাহকারীদের কাছে ক্রয়াদেশের চাহিদা বেশি থাকায় বর্তমানে বেশ প্রতিযোগিতা হচ্ছে। তাতে কিছু ক্রেতা গতবারের চেয়ে কম দাম দিচ্ছেন। তবে অধিকাংশই আগের দামে ক্রয়াদেশ দিচ্ছেন।
সাধারণ ছুটির মধ্যে কারখানা খুলে দেওয়ার মতো চ্যালেঞ্জিং সিদ্ধান্ত এবং শ্রমিকদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারায় পোশাক রপ্তানি ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী। তিনি বলেন, বড় কারখানাগুলো টিকে থাকার মতো ক্রয়াদেশ পেলেও ছোট ও মাঝারি কারখানা সেভাবে পাচ্ছে না। তাই অন্তত দুই মাস তাদের শ্রমিক-কর্মচারীর মজুরির জন্য সহায়তা দরকার।
জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মজুরি দেওয়ার জন্য গত মাসে নতুন করে অর্থ চেয়েছিল পোশাকশিল্প মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। তবে বিজিএমইএর একজন সহসভাপতি জানান, সরকারের তরফ থেকে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।
করোনায় বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার কারণে বড় লিড টাইমে কাজ দিচ্ছে না বিদেশি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ড। তারা কম লিড টাইমের ক্রয়াদেশ দিচ্ছে। ফলে আগামী ছয় মাস পোশাক রপ্তানি কতটা হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। এমন মন্তব্য করে বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, বর্তমানে ক্রয়াদেশ আসার হার ভালো। পোশাকশিল্প টিকে থাকার লড়াইয়ে এটি সহায়তা করবে।
REF: The Daily Prothom Alo,18/7/2020

Saturday, July 4, 2020

Corona epidemic and Unemployment

Unemployment in Bangladesh 

Unemployment is on the rise in countries affected by the global Corona epidemic.The industrial owners are struggling to sustain the industry and trade. Unable to survive, many are being forced to lay off workers. In order to reduce the cost and keep the industry and trade alive, the salaries of the workers are being reduced somewhere. Indian Reliance Group itself has also reduced the salaries of its employees. Various banks, insurance and other industries in Bangladesh have announced to reduce the salaries of their employees. Again, some have chosen the path of layoffs. As a result, private sector entrepreneurs are struggling to survive in a difficult struggle. Many banks have already announced layoffs and pay cuts in Bangladesh's banking sector. Similarly, most of the entrepreneurs are following the same path to keep the industries running. In this, the whole economy is in decline. Although the interest and installments of the bank loan were temporarily suspended for two to three months, it has now been resumed. As a result, whether the factory is closed or running, whether it is a business loss or a profit, the installments and interest of the bank loan have to be paid. As a result, on the one hand, the entrepreneurs of the industrial sector have fallen into a crisis by paying the salaries and allowances of the workers while continuing the production and on the other hand, by paying the installments of the bank.
According to the International Monetary Fund (IMF), Asian countries will experience the lowest economic growth in 70 years this year. The Asian Development Bank (ADB) has also warned that more than 60 million people in these countries are at risk of becoming unemployed. Neighboring India has also seen an increase in unemployment due to the coronavirus. Many people in Bangladesh have already lost their jobs. Some of them are leaving Dhaka and going to their village homes as they cannot drive themselves.
Like other countries in the world, Bangladesh, after being closed for two consecutive months, has opened trade and industry factories to sustain the economy, but production and business activities are being severely disrupted. In this situation, at least two crore people in Bangladesh will fall below the poverty line, the Executive Chairman of the Public and Participation Center (PPRC) said. Hossain Zillur Rahman. On the other hand, a large number of people will become unemployed. Which will create new dimensions in the case of unemployment. Analysts say catastrophes await Asian countries, as in other parts of the world. As a result, our poverty rate has already risen from 20 percent to 25 percent. And according to the report of the International Labor Organization (ILO), Bangladesh has been included in the list of countries at high risk of unemployment in recent times. Meanwhile, there have been various crises in the implementation of the incentive package announced by the government to sustain industry and trade. They are in the dark about whether the real victims will get this incentive. Meanwhile, according to the Bangladesh Bureau of Statistics (BBS), 5 crore 16 lakh working people in the country are employed in the informal sector. Which is 85 percent of the total employment in the country.
Most of the people in this informal sector are now unemployed. Again, the wages of those who are working have also been reduced. Besides, a large number of workers in the institutional sector are also losing their jobs. Similarly the salary is being cut. As a result, on the one hand, the industrial owners are fighting for their survival. On the other hand, a large number of people have lost their jobs and are facing abject poverty. In order to overcome such a situation, the experts said that the investment of the public sector should be further increased and various assistance should be provided to the private sector entrepreneurs to make up for the loss. Although the government has announced several incentive packages worth Tk 1.3 lakh crore, they are not considered sufficient. The ILO, meanwhile, has warned that at least 1.6 billion people worldwide will lose their jobs as a result of the corona. Which is about half of the total working people in the world. Already, like the rest of the world, Bangladesh is beginning to feel the effects. As a result, the income of about 70 percent of the people of Bangladesh has already decreased. As a result of the economic crisis caused by the Corona, the livelihoods of about 1.6 billion workers in the informal economy are at risk. This situation has arisen due to the lockdown measures taken in the country to prevent the outbreak of corona. In the first month of the crisis, the income of workers in the informal sector worldwide fell by 60 percent, compared to 81 percent in African countries. 21.6 percent in the United States, Asia and the Pacific, and 70 percent in Europe and Central Asia. The ILO believes that there will be no way for these workers and their families to survive without an alternative source of income. The ILO called on businesses to take urgent, specific and flexible measures to assist workers in this situation. According to the ILO report, global unemployment has been relatively stable over the past nine years. But as global economic growth slows, there will not be enough jobs for those new to the labor market. Again, a large number of people are becoming unemployed. As a result of the ongoing corona, 1.6 billion people worldwide will become unemployed. At the same time, the United Nations has warned the world that there will be an extreme food crisis.

Sunday, June 21, 2020

Juba League leader injured in terrorist attack in Ghior - their condition is critical

Ad File Photo of  critical injured  Dr Amirul Islamd (Lavlu)
                                             


Bloody clashes are also taking place in Ghior of Manikganj amidst the panic of Corona. Two critically injured people have been admitted to Enam Medical College Hospital in Savar. A complaint was lodged at Ghior police station. Tensions have been high in the area since the incident. Locals said there was a risk of a bloody clash between them at any time.
According to a written complaint lodged with Ghior police station, Ifti Arif, joint general secretary of Upazila Juba League, was attacked on his way to a relief program for about half a hundred poor and helpless people in Chhota Bainya and Patekona areas of Baliakhora union. At that time, the two Juba League leaders and activists who were with him were hacked at random with domestic weapons and severely injured by the miscreants. Arif said that the terrorists attacked with weapons due to previous hostilities.
In this regard, Ifti Arif, Joint General Secretary of Upazila Juba League, said, “9/10 people including Russell, Bachchu, Noor Alam, Shamim stopped us on our way to Bainya Rahij Uddin High School ground to pay cash among more than half a hundred helpless people who lost their jobs due to Corona virus. He demanded 10 thousand rupees. When we protest against this, they attack us with native weapons. The doctors who were with us, Aminul Islam (Lavlu) and Shant were hacked to death and left on the road. The injured have been admitted to Enam Medical College Hospital in Savar.
Bainya Jame Mosque Committee President Mohammad Amjad Hossain denied allegations of obstruction or attack on relief distribution, saying the real incident was about the lease money of the long-disputed water body.
Ghio OC Muhammad Ashraful Alam confirmed the receipt of the written complaint and said legal action would be taken against the accused subject to investigation.
REF: Dhakabangla24.com;21-06-2020